সোনারগাঁও দর্পণ :৪ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব মহাষ্টমী স্নান উৎসব।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এবং সোনারগাঁও উপজেলার মধ্যবর্তীস্থান দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে লাঙ্গলবন্ধ এলাকায় এ স্নান বা ডুব উৎসব শুরু হবে। শেষ হবে ৫ এপ্রিল রাত ১২ টা ৪৫ মিনিটে। গত বার ১৯টি স্নান ঘাটে দেশ-বিদেমের লাখো ভক্ত স্নান উৎসবে তাদের পুণ্যকাজ করলেও এবার নজরকাড়া নজরদারির মধ্যে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ২০টিরও অধিক ঘাঁটে তারা স্নান করতে পারবেন।
মহাষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসবকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবার কড়ানিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন,যা অতীরের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন, লাঙ্গলবন্ধ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ননী গোপাল সাহা।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসক স্নান উৎসবকে ঘিরে স্নানের তিন কিলোমিটার এলাকা নিজে পায়ে হেটে তিনবার পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসকের সহায়তায় এবার চার জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করবেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পাশ^বর্তী দেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের স্নান উৎসবে যে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আঁকাশে ড্রোন উড়বে। যা স্নান উৎসবে প্রথমবারের মতো উদ্যোগ।
এছাড়া, পুণ্যার্থীদের সবিধার্থে টাঙানো হয়েছে রোড ম্যাপ। বিদেশী পুণ্যার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখে পৃথক বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। স্নান উৎসবের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
একজন মেজরের নেতৃত্বে বাংরাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া, নিরাপত্তা সদস্য থাকবেন এক হাজার ৪৪২ জন পুলিশ, ৪৭১ জন আনসার, ৬৪ জন নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম দায়িত্ব পালন করবেন।
র্যাব ও বিজিবি সদস্যরাতো থাকছেনই। নিরাপত্তায় বসানো হয়েছে সাতটি ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়াও সাদাপোশাকে থাকছেন বিশেষ টিম। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় থাকছে ৭টি মেডিকেল ক্যাম্প, ১০টি এ্যাম্বুলেন্স।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রতি ঘন্টায় সবশেষ আপডেট জানবেন। যা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিটি সদস্যকে নিজ দায়িত্ব পালনে অনেক বেশি উজ্জীবিত করবে।
এদিকে, স্নান উৎসব উদযাপন কমিটি থেকে জানাগেছে, ইতোমধ্যে উৎসব পালনের সকল উপকরণসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। ফুল, ধান, বেলপাতা, দুর্বা, হরতকি, ডাব, আম্রপল্লব অন্যান্য সবকিছুরই পর্যাপ্ত আয়োজন রয়েছে।
এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম জরুরী সেবা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সনাতন ধর্মমতে, চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু ধর্মে লাঙ্গলবন্দের এই স্রোতে স্নান করে পরশুরাম মুনি তাঁর পাপমুক্ত হয়েছিলেন। ধর্মগ্রন্থ থেকে পরশুরাম মুনির মুক্তির কথা স্মরণ করে ভক্তরা বহু বছর ধরে এই অষ্টমী-পুণ্যস্নান করে আসছেন। লাঙ্গলবন্ধের এ স্নান উৎসবে বাংলাদেশ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপাল থেকে লাখ লাখ হিন্দু ভক্তের সমাগম ঘটে।