Halloween Costume ideas 2015
April 2025


সোনারগাঁও দর্পণ :

যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী তিন দিন পানিসহ কোন খাবার না দিয়ে খুটির সাথে বেঁধে নির্যাতনে অভিযুক্ত পাষন্ড স্বামী উজ্জলকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ। 

দমদমা গ্রামের শাহজাহানের নিজ বাড়ি থেকে তার ছেলে উজ্জলকে ঘটনার দিন স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। শনিবার পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এরআগে, নির্যাতিতা সাদিয়ার মা জুলেখা বৃহস্পতিবার সোনারগাঁও থানায় পালিত মেয়ে সাদিয়ার স্বামী উজ্জল ও উজ্জলের মা মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। 

এরও দুই বছর আগে উজ্জল সাদিয়াকে বিয়ে করার পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন করে আসছিল। সাদিয়ার পরিবার উজ্জলকে বিভিন্ন সময় দুই লাখ টাকাও দেয়। কিন্তু মাদকাসক্ত উজ্জলের টাকার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারো সাদিয়াকে মারধর শুরু করে। কিছু দিন আগে তাকে গলায় ফাঁস দিয়েও মেরে ফেলার চেষ্টা করে। সবশেষ গত ঈদুল ফিতরের তিন দিন আগে থেকে সাদিয়াকে কোন খাবার এমন কি এক গøাস পানিও না দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে আসছিল উজ্জল। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে যায় এবং সাদিয়াকে উদ্ধার করে উজ্জলকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। 



সোনারগাঁও দর্পণ :

‘দমদমা’ প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। ঐতিহ্যবাহী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা গ্রামটি মাদকমুক্ত গ্রাম তথা দমদমা সমাজকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করেছেন গ্রাম পাঞ্চায়েত কমিটি। 

“মাদককে না বলুন, মাদক ব্যবসায়ী যেখানে, প্রতিরোধ সেখানে” এই শ্লোগানে গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির নির্দেশে স্থানীয় যুবসমাজের উপস্থিতিতে শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকালে দমদমা বয়েজ ক্লাবে আয়োজিত মাদক বিরোধী আলোচনা সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্ধ্যার আগে আলোচনা সভা শেষ হওয়ার পর থেকে দমদমা সমাজ তথা বিশেষ খানা, সাউপাড়া, দমদমা, আমতলা (এ সকল গ্রামের বাসিন্দারাও দমদমা সমাজের অন্তর্ভূক্ত) গ্রামের কোন স্থায়ী বা অস্থায়ী (ভাড়াটিয়া) বাসিন্দারা যদি মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত থাকে তাহলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে সমাজচ্যুত করার পাশাপাশি সমাজ থেকে বিদায় করে আইনের কাছে সোপর্দ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

দমদমা বয়েজ ক্লাবে সভাপতি নাহিদ মোল্লার সঞ্চালনায় দমদমা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি কবিরুজ্জামান মোল্লার সভাপতিত্বে দমদমা জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক পঞ্চায়েত কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য মোস্তফা কামাল বাবুল বলেন, এক সময় দমদমা গ্রামের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষদের অত্র ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের মানুষ সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতো। 


সম্প্রতি এই গ্রামের কিছু যুবককে ব্যবহার করে অন্যান্য গ্রামের বখাটে লোকজন মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে ফেলে। ফলশ্রæতিতে আমাদের নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে একটি সুস্থ্য ও মাদকমুক্ত সমাজ জীবন উপহার দিতে দমদমার যুবসমাজ মাদক নির্মূলে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়নে যা যা করা দরকার দমদমা সমাজ তা-ই করবে। 

মাদক নির্মূল করতে গিয়ে যদি সমাজের কোন পঞ্চায়েতের লোকজন বাধা দেয়, মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রহণকারীদের প্রকাশ্যে বা গোপনে সাহস যোগায়, সে যদি আমার নিজের ঘরের লোকও হয় তাকেও সমাজচ্যুত করে সমাজ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এছাড়া, দমদমা সমাজের সকল বাড়ির মালিকদেরকে তাদের ভাড়াটিয়াদের মাদক ব্যবসা, গ্রহণ ও শিষ্টাচারহীন কোন কাজের সাথে জড়িত পাওয়া যায়, তাহালে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজের পক্ষ থেকে সেই ভাড়াটিয়াদেরকেও এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। 

গোষ্ঠীগত দ্ব›দ্ব দমদমা গ্রামের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা যুবসমাজের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রাম প্রধান সৈয়দ হোসেন বলেন, যেখানে আমাদের সমাজের সম্মান জড়িত সেখানে গোষ্ঠীগত দ্ব›দ্ব গৌন বিষয়। এখন থেকে কোন গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে বিবেচনায় রেখে কোন বিচার বা কাজ হবেনা। বিচার হবে দোষ দেখে। আর মাদক যেহেতু যেকোন অপরাধের প্রথম শত্রæ, তাই আগে প্রথম শত্রæকে শেষ করতে কোন রকম ছাড় দেওয়া হবেনা। 

মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও দমদমা পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যুব সমাজের যে কোন ভালো কাজের সাথে ছিলাম আছি এবং থাকব। ভবিষ্যতে আমরা বেঁচে থাকতেই দেখে যেতে চাই, আমাদের যুব সমাজ যে কোন সামাজিক সমস্যা সমাধানে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিচ্ছে। এখন থেকে সকল আচার-বিচার তারা করবে আমরা পিছন থেকে তাদের সহযোগিতা করব মাত্র। কিন্তু এটাকে ব্যবহার করে যেন কেউ ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবতি না হয়ে কোন অপরাধে না জড়ায় সে দিকে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান।

মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আবুল কালাম প্রধান বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কে কার ভাই, কার বাবা, কার মামা-কার কি সেগুলো দেখার বা শোনার সময় এখন না। এখন সময় আমাদের গ্রামের, সমাজের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা। এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে স্বজন প্রীতি, আত্মীয়করণকে পায়ে ঠেঁলে যুব সমাজকে সাথে নিয়ে যে কোন সমস্যা সমাধানই মুল লক্ষ্য। 

পরে আলোচনা সভার বার্তা সমাজের সকলের কাছে পৌঁছে দিতে এবং সমাজের মুরুব্বীদের দিক-নির্দেশনায় দমদমা সমাজের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উপস্থিত সকল যুবক ওয়াদাবদ্ধ হয়।



সোনারগাঁও দর্পণ : 

গেল বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে দেশের আইনশৃঙ্খলাও প্রায় ভেঙে যায়। সে সময় পুরো দেশে বেড়ে যায় ছিনতাই,ধর্ষণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঘটনা। এমন অরাজক পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা দিতে হোন ঐক্যবদ্ধ।

তারই ধারাবাহিকতায় “নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা গড়ি, অপরাধ রোধ করি” শ্লোগানে মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং তথা সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ঈদ পূণর্মিলন ও আলোচনা সভা করেছে অরাজনৈতিক সংগঠন “মোগরাপাড়া শান্তি, শৃঙ্খলা যুব ঐক্য সংঘ।” 

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড় সাদীপুর গ্রামের দলাল বাগ লিচু বাগানে শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


স্থানীয় আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ শেখ জাহিদুল আলম রাহিমের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বড় সাদীপুর ঈদগাঁহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমএ মহিন মিয়া।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুবক সমাজের বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ বর্তমান সমাজের অবক্ষয়, অবক্ষয়ের কারণ, প্রতিকার এবং ইসলামের ধর্মীয় রীতি-নীতিতে কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় এ সকল বিষয় তুলে ধরে বিশদ আলোচনা করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বড় সাদিপুর গ্রাম এর উদ্যোক্তা হলেও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দমনে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেন “মোগরাপাড়া শান্তি, শৃঙ্খলা যুব ঐক্য সংঘ” অনতিবিলম্বের একটি নীতিমালা করে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৫৬টি গ্রামের গ্রামবাসীর সমন্বয়ে সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ দমনে সহায়তা করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন বড় সাদিপুর ঈদগাঁহ ও সাদীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটি। 

আলোচনা সভার পর বড় সাদীপুর, বিশেষখানা, লেবুছড়া, দলদার, মুকতিশপুর, ষোলপাড়াসহ ৯ গ্রামে আজ ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে কোন মাদক, সন্ত্রাসী কর্মকাÐ, ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ মুলক কাজ বন্ধে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সকল গ্রামে আজ থেকে কোন ধরনের মাদক গ্রহণ, বিক্রি ও আদান-প্রদান এবং সন্ত্রাসী, ছিনতাই কাজ করলে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদেরকে ধরে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। 



সোনারগাঁও দর্পণ :

এক সময়ের স্রোতন্বেসী মেঘনা তার আগের রূপ হারায়নি। এখনো মেঘনার প্রবল স্রোতে ভেসে যায় জীবন। নৌ-পরিবহন ডুবে গেলে কোন কোন সময় কোন কোনটার হদিস না পাওয়ার নজির আছে অনেক। কিন্তুসকল জান ও মালের উর্ধ্বে মানুষের জীবন। আর সেই অমূল্য সেই জীবন রক্ষায় নিজ উদ্যোগে সতর্কতামুলক উদ্যোগ নিয়েছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার তেতৈতলা এলাকার কতিপয় যুবক। তারা ব্যানার টাঙিয়ে মেঘনা ব্রীজের পিলারে সেই ব্যানার লাগিয়ে দেন স্বউদ্যোগে।

জানাগেছে, প্রতি বছর অতি উৎসাহী কিছু মানুষের অসতর্কাতার কারণে গজারিয়া অংশে মেঘনা ব্রীজের অদূরে পানিতে ডুবে কোন না কোন মানুষের মৃত্যু হয়। যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সবশেষ গত ২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় এলাকার আতিক হোসেনের ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ ফারুফ (২০) নিখোঁজ হয়। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে গজারিয়া থানার মেঘনা নদীর ভাটিবলাকী এলাকায় ফারুকের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে নৌ পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় যুবক ইমরান ভুইয়ার উদ্যোগে এবং স্থানীয় ইফাত আলম রিমন, রাফিজ ভুইয়া, আসিফ দেওয়ান, রোহান, নিরবের স্বেচ্ছাশ্রমে মেঘনা নদীর উপর নির্মিথ মেঘনা ব্রীজের পিলারে সতর্কতামুলক ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। যেখানে লেখা রয়েছে, “বিপদজনক এরিয়া” মেঘনা নদীতে আজ (৪ এপ্রিল) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নদীতে নামা নিষেধ করা হইল। “জীবন অমূল্য, ঝুঁকি নয়-পানিতে না” ‘পানিতে নামা জীবননাশের কারণ হতে পারে।’

তেতৈতলা এলাকার পাথর ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ২ এপ্রিল ২২ জন যুবক গোসল করতে মেঘনা নদীতে নামে। সকলে উঠলেও ফারুক না উঠায় তাকেও উঠতে বলে সহপাঠিরা। ফারুক তাদের জানায় একটি মাত্র ডুব দিয়েই সে উঠে যাবে। কিন্তু ডুব দেওয়ার পর সে না ওঠায় অন্যরা তাকে খুঁজে পায়নি। হয়তো ওই ডুবই ছিল ছেলেটির শেষ ডুব।

পরে আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, প্রতিবছরই এইস্থানে কেউ না কেউ নিখোঁজ হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু মেঘনায় প্রচুর স্রোত। আর ছেলেটি সাতার জানতনা। তাই স্রোতের তীব্রতায় ডুবে ভেঁসে গিয়ে মৃত্যু হয়। তাই যুব সমাজের এমন উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানান তিনি।



সোনারগাঁও দর্পণ :

৪ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব মহাষ্টমী স্নান উৎসব। 

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এবং সোনারগাঁও উপজেলার মধ্যবর্তীস্থান দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে লাঙ্গলবন্ধ এলাকায় এ স্নান বা ডুব উৎসব শুরু হবে। শেষ হবে ৫ এপ্রিল রাত ১২ টা ৪৫ মিনিটে। গত বার ১৯টি স্নান ঘাটে দেশ-বিদেমের লাখো ভক্ত স্নান উৎসবে তাদের পুণ্যকাজ করলেও এবার নজরকাড়া নজরদারির মধ্যে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ২০টিরও অধিক ঘাঁটে তারা স্নান করতে পারবেন। 

মহাষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসবকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবার কড়ানিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন,যা অতীরের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন, লাঙ্গলবন্ধ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ননী গোপাল সাহা। 

তিনি জানান, জেলা প্রশাসক স্নান উৎসবকে ঘিরে স্নানের তিন কিলোমিটার এলাকা নিজে পায়ে হেটে তিনবার পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসকের সহায়তায় এবার চার জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করবেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পাশ^বর্তী দেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের স্নান উৎসবে যে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আঁকাশে ড্রোন উড়বে। যা স্নান উৎসবে প্রথমবারের মতো উদ্যোগ।

এছাড়া, পুণ্যার্থীদের সবিধার্থে টাঙানো হয়েছে রোড ম্যাপ। বিদেশী পুণ্যার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখে পৃথক বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। স্নান উৎসবের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। 

একজন মেজরের নেতৃত্বে বাংরাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া, নিরাপত্তা সদস্য থাকবেন এক হাজার ৪৪২ জন পুলিশ, ৪৭১ জন আনসার, ৬৪ জন নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম দায়িত্ব পালন করবেন। 

র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরাতো থাকছেনই। নিরাপত্তায় বসানো হয়েছে সাতটি ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়াও সাদাপোশাকে থাকছেন বিশেষ টিম। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় থাকছে ৭টি মেডিকেল ক্যাম্প, ১০টি এ্যাম্বুলেন্স।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রতি ঘন্টায় সবশেষ আপডেট জানবেন। যা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিটি সদস্যকে নিজ দায়িত্ব পালনে অনেক বেশি উজ্জীবিত করবে। 

এদিকে, স্নান উৎসব উদযাপন কমিটি থেকে জানাগেছে, ইতোমধ্যে উৎসব পালনের সকল উপকরণসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। ফুল, ধান, বেলপাতা, দুর্বা, হরতকি, ডাব, আম্রপল্লব অন্যান্য সবকিছুরই পর্যাপ্ত আয়োজন রয়েছে। 

এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম জরুরী সেবা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। 

উল্লেখ্য, সনাতন ধর্মমতে, চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু ধর্মে লাঙ্গলবন্দের এই  স্রোতে স্নান করে পরশুরাম মুনি তাঁর পাপমুক্ত হয়েছিলেন। ধর্মগ্রন্থ থেকে পরশুরাম মুনির মুক্তির কথা স্মরণ করে ভক্তরা বহু বছর ধরে এই অষ্টমী-পুণ্যস্নান করে আসছেন। লাঙ্গলবন্ধের এ স্নান উৎসবে বাংলাদেশ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপাল থেকে লাখ লাখ হিন্দু ভক্তের সমাগম ঘটে।



সোনারগাঁও দর্পণ :   

অপারেশন করার চিকিৎসকের সদন নেই। অপারেশন থিয়েটারেও নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। এছাড়া চিকিৎসকও অন্য বিভাগের। তারপরও অপারেশন করেছেন। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে রাসেল নামে এক রোগীর। 

ঘটনাটি গত ৩০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন দিবাগত রাতে সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ঐতিহ্যবাহী গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বা সোনারগাঁও সরকারি কলেজ সড়কের ডান পাশে জলিল প্লাজায় অবস্থিত “মেডিকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল”এ ঘটেছে। 

এ ঘটনার পর হাসপাতাল ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধাঁমাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও বিশ^স্ত একটি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। খবরপেয়ে, ঘটনাস্থলে গেলে হাসপাতালের ভিতরে কর্মচারীদের দেখা গেলেও একাধিকবার কলিং বেল বাঁজালে এবং ডাকা-ডাকি করলেও কেউ কোন সাড়া দেয়নি। 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, রাসেল নামে বরিশালের এক ব্যক্তি পরিবার নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করতেন উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের গোহাট্টা গ্রামে। তিনি মেঘনা শিল্পাঞ্চলে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। গত ৩০ মার্চ বিকালে রাসেলের হঠাৎ পেটে ব্যাথা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় মেডিকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

এদিকে, হাসপাতালে কোন চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করেন এবং ফোনে শিশির আহমেদ নামে অর্থোপেডিক বিভাগের এক চিকিৎসক (!)’কে ডেকে আনেন। 

ডা. (!) শিশির রাসেলের লিভারে সমস্যা হয়েছে এবং তাকে দ্রæত অপারেশন করাতে হবে, নয়তো রোগির জীবন নিয়ে সমস্যা হবে বলে রোগীর সাথে থাকা ব্যক্তিদের জানান। তারাও দ্বিগবেদ্বিক না ভেবে অপারেশনের অনুমতি দেন।

সন্ধ্যায় অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে রাতেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠায় ডা. (!) শিশির।

পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রোগী বেশ কিছু আগেই মারাগেছেন। 

এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার তিথি বলেন, রোগী মৃত্যুর ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে যতদূর মনে পরে, আমি সোনারগাঁওয়ে যোগদানের পর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বেশ কিছু অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাই। তখন মেডিকেয়ার জেনারেল হাসপাতালের কোন অনুমতিপত্র পাইনি। তখন তাদেরকে অনুমতি না নিয়ে মৌখিকভাবে কার্যক্রম না চালানোর জন্য নির্দেশ দিয়ে আসছিলাম। 

আসলে আমাদের ম্যাজেষ্ট্রেসি পাওয়ার না থাকায় অনেক সময় চাইলেও অনেক কিছু করতে পারিনা। এ সকল বিষয়গুলো সিভিল সার্জন অফিসই দেখে। তবে, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মশিউর রহমান জানান, মেডিকেয়ার জেনারেল হাসপাতালের হালনাগাদ সনদ আছে কি-না অফিস না খুললে সঠিক বলা যাচ্ছেনা। তবে, স্বাভাবিকভাবে একজন অর্থোপেডিকের চিকিৎসক কেন লিভার অপারেশন করবে ? আসলে পারলে কিন্তু কোন সমস্যা নাই, না পারলেই সমস্যার সৃষ্টি হয়। যিনি অপারেশন করেছেন তিনি পারেন না বিধায় সমস্যা হয়েছে। পারলেতো সমস্যা হতো না। 

তবে, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সোনারগাঁও দর্পণ :

কোন রকম খাবারতো নয়ই বরং ঈদের দিনও এক ফোঁটা পানি চেয়েও পায়নি। টানা তিন দিন খুটির সাথে বেধে নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল পাষন্ড স্বামী উজ্জল। তিনি দিন গলায় ফাঁস দিয়েও মারতে চেয়ে ব্যর্থ হয়। 

তিন দিন পর গতকাল মৃত্যু যন্ত্রণার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা গিয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় সাদিয়াকে উদ্ধার করে। পরে তার পালিত মা তাকে হাসপাতাল ভর্তি করে। বর্তমানে সাদিয়া স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। 

যৌতুক না পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার দমদমা নদভী নগর এলাকার মৃত মাহজাহানের ছেলে উজ্জল এ কান্ড ঘটায়। 

এ বিষয়ে থানায় লিখত অভিযোগে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী জুলেখা জানান, ২০ বছর আগে মেঘনা ব্রীজ এলাকা থেকে কুড়িয়ে পান সাদিয়াকে। বিশ বছর নিজের সন্তানের আদর-স্নেহ দিয়ে লালন-পালন করে গত ২ বছর আগে দমদমা গ্রামের মৃত শাহ জাহানের ছেলে উজ্জলের সাথে বিয়ে দেন সাদিয়াকে। 

বিয়ের পর থেকেই উজ্জল কারণে-অকারণে তার পালিত মেয়ের কাছে যৌতুক বাবদ ৩ লক্ষ টাকা দাবী করে আসছিল। উজ্জলকে বিভিন্ন সময় দুই লাখ টাকাও দেওয়া হয়েছে। তাতেও সে ক্ষান্ত হয়নি। বরং সাদিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছিল। বর্তমানে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে সাদিয়া চিকিৎসাধীন।

নির্যাতনের শিকার সাদিয়া জানায়, ঈদের তিন দিন আগ থেকে তাকে একফোটা পানিও দেয়নি স্বামী উজ্জল। শুধু মারতো আর হাসতো। তার মা-বোন সবাই জানতো। কিন্তু কিছুই বলতো না। 

এরআগেও তিন বার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। একবার দমবন্ধ হয়ে দাতে জিহ্বা আটকেও যায়। আল্লাহর কৃপায় বেঁচে যান। এমনকি তার চুলও কেটে দিয়েছে স্বামী উজ্জল।

সবশেষ গত ২ এপ্রিল উজ্জলের মা মনোয়ারার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে পুনরায় নির্যাতন শুরু করলে তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে যান এবং খুটির সাথে বাধাবস্তায় তাকে উদ্ধার করে।

এঘটনায় উজ্জলের শাস্তি দাবি করেছেন নির্যাতনের শিকার সাদিয়া, তার মা জুলেখা এবং এলাকাবাসী। 

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান জানান, এ ঘটনায় মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মেয়েটি যেহেতু এতিম। সোনারগাঁও থানা পুলিশ সর্বোচ্চ মানবিকতার সাথেই মামলাটি দেখবে।

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget