সোনারগাঁওয়ে ১০ টাকা চাঁদা দেওয়া-না দেওয়া দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজদের নির্যাতনে রিকশা চালকের মৃত্যু
সোনারগাঁও দর্পণ :
মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দেওয়া-না দেওয়া দ্বন্দ্বে পরিবহন চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি রিক্সাচালক মমিনুল মিয়া (৪০)। রবিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সনমান্দী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটলেও দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় থাকার পর বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন মমিনুল। নিহত মমিনুল নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে।
এদিকে, মমিনুলের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় কয়েকগ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও দোষিদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সংলগ্ন দড়িকান্দী-বাংলাবাজার সড়ক অবরোধ করে। যার বিরূপ প্রভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে যানবাহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের পরতে হয় বিড়ম্বনায়।
স্থানীয়রা জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় স্থানীয় শাহীন, মজনু, মোহন, সুমন, জাহাঙ্গীর ও রুপচাঁন মিয়ার সমন্¦য়ে গঠিত একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বাংলাবাজার-দড়িকান্দী অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ডে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (১৭ মে) অটোরিকশা চালক মমিনুলের কাছে শাহিন ১০টা চাঁদা দাবি করে। মমিনুল তাকে এরআগে ওই দিনই টাকা দিয়েছে বলে জানায়। কিন্তু শাহিনের দাবি মমিনুল টাকা না দিয়ে মিথ্যা কথা বলছে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় শাহিনের সাথে থাকা অন্যান্য সহযোগিরা এসে মমিনুলকে বেধরক পিটিয়ে আহত করে। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মমিনুলকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বুধবার (২০ মে) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটটি শুধু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিই করে না। তাদের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষও অতিষ্ট। তারা কতোটা নির্দয় ও নির্মম হলে মাত্র ১০টাকার জন্য একজন নিরিহ রিক্সাচালককে টিপিয়ে মেরে ফেলতে পারে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন।
নিহত মমিনুলের মৃত্যুতে পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অসহায় হয়ে পরা তার স্ত্রী রিনা বেগম স্বামী হত্যার বিচার চান এবং আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি অভিযুক্তদেরকে নিজ হাতে শাস্তি দিবেন বলে দাবি করেন। এ সময় তার ছোট ছোট দুইটি সন্তানকে নিয়ে কিভাবে ভবিষ্যতে জীবন নির্বাহ করবেন কান্নাজড়িত কন্ঠে তাও বারবার উল্লেখ করেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, বিক্ষোভকারীরা ১৫ মিনিটের মতো মহাসড়কে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে অবস্থানের পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছি। বিক্ষোভের সময় যান চলাচল কিছু ধীরগতি থাকলেও যানজট হয়নি। নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটা মামলায় রূপান্তিরিত করা হবে।





