নদী খনন (ড্রেজিং) এর নামে রাতভর অবৈধভাবে বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে বালু খেকো চোরের দল। সূর্য ডোবার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীতে শুরু হয় বালু খেকোদের দৌরাত্ব। আর এ কাজে স্থানীয় একাধিক কথিত সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ১০ মে শুরু হওয়া অবৈধ এ কাজে শুধু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সকল খরচ বাদে ৭ দিনে ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ^স্ত সূত্র দাবি করেছে।
সূত্রের দেয়া তথ্য মতে, গত ১১দিন ধরে অবৈধ বালু চুরির সাথে মোট ১৫ থেকে ২০ টি ড্রেজার দিয়ে রাতের আঁধারে উপজেলার আনন্দ বাজার গরুর হাটের অদূরে মেঘনার মোহনা থেকে বালু উত্তোলন করছে একদল বালু চোর। আর এ কাজে সহায়তা করছে সুবিধাবাদি নেতা নেতা হিসাবে ব্যাপক পরিচিত, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান এমপির আস্থাভাজন মাসুম রানা, মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক এবং নলচর গ্রামের হাবিবুল্লাহর ছেলে রবিউল্লাহ রবিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। এছাড়া, স্থানীয় একাধিক কথিত সাংবাদিকও জড়িত। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অজ্ঞাত কারণে চোখে কাঁঠের চশমা আর নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছেন।
যদিও অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলনের ফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, একাধিক শিল্প কারখানা, পাঁচটি গ্রামের মানুষ এবং একটি বাজারে থাকা ব্যবসায়ীদের চোখের ঘুম ইতোমধ্যে হারাম হয়ে গেছে। আগামী বর্ষায় ভাঙ্গনের কবলে এ সকল স্থাপনা আর গ্রামগুলো বিলিন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে, রাতের আধাঁরে বালু চুরির ঘটনা (ছবি ও ভিডিও) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে স্থানীয় নেটিজনদের বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চোরাই বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ড্রেজারের মধ্যে স্থানীয় সাংবাদিকদের নামেও দুটি ড্রেজার বালু উত্তোলন করছে। তার মধ্যে দেশের প্রথম সারির অন্যতম দুটি পত্রিকার দুই সাংবাদিকের নামে একটি এবং অপর একটি পত্রিকার সাংবাদিকের নামে আরও একটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ড্রেজার বসানো কথিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাখা হয়েছে সাংবাদিক নামধারী আরও কিছু দালাল।
নাম প্রকাশে অন্য একটি সূত্র দাবি করে, উপজেলা বিএনপির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা এ বালু উত্তোলনের সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় প্রশাসন এবং রাজনৈতিকভাবে কোন প্রতিকারের চেষ্টাও কেউ করছেনা।
তবে, দিনের বেলায় একটি ১২ ইঞ্চি কাটিং ড্রেজার দিয়ে নদী খননের কাজ করতে দেখা গেছে বলে একটি সূত্র জানায়।
যদিও সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের দাবি, ‘বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতি সাপেক্ষে নদী খননের কাজ চলছে। আর বালু উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, রাতে বালু কাটার কোন আইন নেই। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত লোকবলসহ কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
তবে, ‘বিআইডব্লিউটিএ’ যদি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চায় এবং পর্যাপ্ত লোকবল দেয় সে ক্ষেত্রে তিনি অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে মুন্সীগঞ্জের চাকদা ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড মেঘনা নদী খননের অনুমতি পায়। দরপত্র অনুযায়ী দেশের প্রচলিত নিয়ম-নীতি মেনে আনন্দবাজার হাট থেকে বারদি পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার নদী ১৮ ইঞ্চি কাটিং ড্রেজার দিয়ে খনন করে উত্তোলিত বালু নদী পাড়ে ডাম্পিং এর পর নিয়মিত বিরতিতে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রচলিত নিয়ম রীতির তোয়াক্কা না করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত রাতভর লোডিং ড্রেজার দিয়ে দরপত্র অনুযায়ী নদী খনন না করে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ তার ইচ্ছা মতো বেশ কিছু ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পিরোজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানাকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাঈমা ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, জেলা প্রশাসন থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। সম্প্রতি কাউকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আমার জানামতে, বিআইডব্লিউটিএ এর একটি প্রকল্পের কাজ সোনারগাঁও উপজেলায় চলমান বলে আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে তারাই (বিআইডব্লিউটিএ) ভালো বলতে পারবে।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ এর তত্ত্বাবধায়ক (ড্রেজিং) আব্দুর রহমান বলেন, প্রথমতো বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার বিআইডব্লিউটিএ এর নেই। দ্বিতীয়ত, রাতের বেলা ড্রেজিংয়ের অনুমতিও নেই। তৃতীয়ত, আমাদের কাজ (ড্রেজিং) করতে হলে ১৮ ইঞ্চি কাটিং ড্রেজার দিয়ে দিনের বেলা করতে হয়। এর বাইরে কোন কাজ করা বা বালু উত্তোলনের অনুমতি আছে বলে আমার জানা নেই।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ঠিকাদার মোমেন সিকদার (১৯ মে) বলেন, ড্রেজিংতো বালু উত্তোলনের আওতায়ই। তবে, ডিসি অফিস থেকে যেভাবে চর কাটার অনুমতি দেওয়া হয় সে রকম না। কোন বালু বিক্রি করিনা আমি। কোন বালু উত্তোলনও করিনা। মাত্র আমার একটা ড্রেজার স্পটে আসছে, ফিটিং হয় নাই এখন পর্যন্ত।
যারা বালু কাটার দায়িত্বে আছে তারা আপনার কথা বলছে এবং আপনার নাম্বারটা তাদের কাছ থেকেই পেলাম। এমন প্রশ্নের জবাবে মোমেন শিকদারের ফিরতি প্রশ্ন কই আছে ড্রেজার ? কোথায় কাটতেছে ?
যে ড্রেজার আসছে সেইটাতে সুন্দর করে ব্যানার টাঙ্গানো আছে, যেখানে লিখা ‘বিআইডব্লিউটিএ’ এর অনুমোদিত বালু খনন প্রকল্প। অকপটে আরেকটি ড্রেজার দিয়ে বালু পরতেছে স্বীকার করে পরক্ষণেই সেই ড্রেজারও তার নয় বলে দাবি করেন মোমিন শিকদার। ওই ড্রেজারটি দায়েন বা ডালিম নামে একজনের বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, তিনি বারদী থেকে বৈদ্দেরবাজার পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের কাজ পান বিআইডব্লিউটিএ’ এর কাছ থেকে। কাজ পাওয়ার অনুমতির কাগজ চাইলে তিনি এক কথিত সাংবাদিককে ফোন ধরিয়ে তার সাথে কথা বলতে বলেন। ফোনের ওপাশ থেকে কথা বলতে আসার ব্যক্তি প্রতিবেদকের নাম জানতে চাইলে নাম বলার পরই ফোনটি পূণরায় মোমেন শিকদারের কাছে ফেরত দেন। পরে তিনি প্রতিবেদককে তার কলাপাতা রেস্টুরেন্টের অফিসে যাওয়ার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দেওয়া-না দেওয়া দ্বন্দ্বে পরিবহন চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি রিক্সাচালক মমিনুল মিয়া (৪০)। রবিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সনমান্দী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটলেও দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় থাকার পর বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন মমিনুল। নিহত মমিনুল নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে।
এদিকে, মমিনুলের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় কয়েকগ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও দোষিদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সংলগ্ন দড়িকান্দী-বাংলাবাজার সড়ক অবরোধ করে। যার বিরূপ প্রভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে যানবাহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের পরতে হয় বিড়ম্বনায়।
স্থানীয়রা জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় স্থানীয় শাহীন, মজনু, মোহন, সুমন, জাহাঙ্গীর ও রুপচাঁন মিয়ার সমন্¦য়ে গঠিত একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বাংলাবাজার-দড়িকান্দী অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ডে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (১৭ মে) অটোরিকশা চালক মমিনুলের কাছে শাহিন ১০টা চাঁদা দাবি করে। মমিনুল তাকে এরআগে ওই দিনই টাকা দিয়েছে বলে জানায়। কিন্তু শাহিনের দাবি মমিনুল টাকা না দিয়ে মিথ্যা কথা বলছে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় শাহিনের সাথে থাকা অন্যান্য সহযোগিরা এসে মমিনুলকে বেধরক পিটিয়ে আহত করে। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মমিনুলকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বুধবার (২০ মে) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটটি শুধু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিই করে না। তাদের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষও অতিষ্ট। তারা কতোটা নির্দয় ও নির্মম হলে মাত্র ১০টাকার জন্য একজন নিরিহ রিক্সাচালককে টিপিয়ে মেরে ফেলতে পারে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন।
নিহত মমিনুলের মৃত্যুতে পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অসহায় হয়ে পরা তার স্ত্রী রিনা বেগম স্বামী হত্যার বিচার চান এবং আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি অভিযুক্তদেরকে নিজ হাতে শাস্তি দিবেন বলে দাবি করেন। এ সময় তার ছোট ছোট দুইটি সন্তানকে নিয়ে কিভাবে ভবিষ্যতে জীবন নির্বাহ করবেন কান্নাজড়িত কন্ঠে তাও বারবার উল্লেখ করেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, বিক্ষোভকারীরা ১৫ মিনিটের মতো মহাসড়কে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে অবস্থানের পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছি। বিক্ষোভের সময় যান চলাচল কিছু ধীরগতি থাকলেও যানজট হয়নি। নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটা মামলায় রূপান্তিরিত করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ফয়সাল (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার পৌরসভার জয়রামপুর এলাকায় তার নিজ বাড়ির দোতলায় নিজ কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, ফয়সাল একই এলাকার ইব্রাহিম খলিলের বড় ছেলে। ব্যক্তি জীবনে ফয়সাল বিদ্যুৎ মিস্ত্রি হলেও এলাকায় মাদক সেবি এবং ব্যবসায়ী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিল।
ফয়সালের ছোট ভাই ফাহিম জানায়, ফয়সাল মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় তার পরিবার তার (ফয়সাল) সাথে রাগ করে সাভার ভাড়ায় থেকে বসবাস করেন। তার বাবা প্যারালাইসিস রোগি। ফাহিম তেজগাঁও কলেজে হিসাবরক্ষণ বিভাগে অনার্স অধ্যয়নরত।
ফাহিম আরও জানান, ব্যক্তি জীবনে তার বড় ভাই ফয়সাল পারিবারিকভাবে প্রথম বিয়ে করেন কুমিল্লায় স্বর্ণা নামে এক নারীকে। বিয়ের পর ফয়সাল প্রথমে মাদক গ্রহণ এবং পরবর্তীতে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পরে। প্রথম স্ত্রী অনেক কষ্ট করে মাদক থেকে সুস্থ্য জীবনে আনার পর কাউকে না জানিয়ে স্থানীয় এলাকায় ভাড়া থাকা রংপুরের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মুলত দ্বিতীয় বিয়ের পর সে এলাকায় চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পায়। তার পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের বাড়ির এক পরশি জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগেও ফয়সালের দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে ফয়সালের ঝগড়া হয়। সে সময় তার স্ত্রী ফয়সালকে শারীরিক নির্যাতনও করেন। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে ওই মহিলা ফয়সালকে শারীরিক নির্যাতন করতো।
ফয়সালের বিদেশ ফেরত এক চাচাতো ভাই জানায়, গত শুক্রবার ফয়সাল স্থানীয় মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। এরআগে, গাছের বিভিন্ন ফল পেরে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে বিলি করেন। তারমধ্যে কোন চিন্তা বা দুশ্চিন্তার ছাঁপ দেখা যায়নি। তবে, তার অর্ধগলিত মরদেহ দেখে ধারণা করা হয় কমপক্ষে দুদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে ফয়সালের মরদেহ যে কক্ষে ছিল সে কক্ষের বাহিরে একটি বিড়ালকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, মৃতের শরীর থেকে যে সকল ময়লা বা পচাঁ রক্ত বের হয়েছে, সে রক্ত খেয়ে বিড়ালটির মৃত্যু হতে পারে।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছি। তবে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না দেখে নিশ্চিত কিছুই বলা যাচ্ছে না।
হতভাগা কিশোরের মায়ের অভিযোগ, স্বাশরোধে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর ঘটনার সাথে জড়িতদের বাঁচাতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিহত কিশোর আত্মহত্যা করেছে প্রচার করে তার সাথে অমানবিক কাজ করেছে। যা বারদী এলাকায় এটাই প্রথম।
থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পর পুলিশ কিশোরের মরদেহটি বারদী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড এর বড় আলমদী শাউপারা গ্রামে ্নএকটি নির্জস্থন বাগান থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার বর্ণনায় জানাগেছে, বারদি ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশের নারী সদস্য ফুলেছা বেগমের চৌদ্দ বছরের কিশোর আশরাফুল’কে বৃহস্পতিবার শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বারদী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এর বড় আলমদি গ্রামের স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বজনরা। পরে ওই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করেন তারা।
প্রভাবশালীরা এতেই ক্ষান্ত হয়নি, আশরাফুলের মৃত্যু সংবাদটি মসজিদের মাইক দিয়ে প্রচার করতেও দেওয়া হয়নি। এছাড়াও বাঁধা দেওয়া হয়েছে জানাজা আদায়ে এবং দাফনটাও করতে হয়েছে তার নিজ এলাকার বাইরে সন্মান্দিতে।
পরে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।
এদিকে, স্থানীয় প্রভাবশালী ও আত্মীয়-স্বজনদের দ্বারা এমন অমানবিক কাজ অনেকেই মেনে নিতে পারছেনা। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করবে বলে জানাগেছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্পাঞ্চলে ৭১৮ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আমির হোসেন নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট দুই জনের মৃত্যু হলো।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, আমিরের শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এরআগে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় শংকর গোমেজ (২৫) নামে “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনের শেফ মারা যায়।
হাসপাতালটির চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, ওই বিষ্ফোরনের ঘটনায় দগ্ধ আরও চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা সকলের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
এরও আগে, বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনের রান্না ঘরের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষ্ফোরণে কমপক্ষে ১২ শ্রমিক দগ্ধ হয়। দগ্ধদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এ পাঠানা হয়।
সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্পাঞ্চলে ৭১৮ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ শেফ শংকর গোমেজ (২৫) এর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শংকর গোমেজ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চিটাগুড়ি দিয়ারা পাড়া জোসি গোমেজের ছেলে।
রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, শংকরের শরীরের ৪৬ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ ৫ জন এখনো চিকিৎসাধীন।
এরআগে, বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনের রান্না ঘরের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষ্ফোরণে কমপক্ষে ১২ শ্রমিক দগ্ধ হয়। দগ্ধদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এ পাঠানা হয়।