Halloween Costume ideas 2015

সোনারগাঁও দর্পণ

সর্বশেষ পোস্ট
অপরাধ অর্থ ও বাণিজ্য আওয়ামী লীগ আড়াইহাজার আদালত আন্তর্জাতিক উত্তরা পূর্ব থানা কাঁচপুর কুমিল্লা খেলাধুলা গজারিয়া গণমাধ্যম গাজীপুর চট্টগ্রাম জাতীয় জামপুর জামায়াত ঢাকা তথ্যপ্রযুক্তি থানা প্রশাসন দাউদকান্দি ধর্ম নরসিংদী নারায়ণগঞ্জ নোয়াখালী নোয়াগাও পর্যটন ও পরিবেশ পিরোজপুর পৌরসভা ফতুল্লা বন্দর বরগুনা বারদী বিএনপি বিনোদন বৈদ্যের বাজার ভারত ভুলতা মুন্সিগঞ্জ মোগরাপাড়া রাজনীতি রাজনীতি. রাজনীতি. বিএনপি রাজনীতি.মোগরাপাড়া রাজশাহী রূপগঞ্জ র‌্যাব র‌্যাব-11 শম্ভুপুরা শিক্ষা শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিবির সন্মান্দি সংস্কৃতি সাদীপুর সাভার সারাদেশ সিদ্ধিরগঞ্জ সিভিল প্রশাসন সিলেট সেনা সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কথা হাইওয়ে পুলিশ


সোনারগাঁও দর্পণ :

এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বা আইনশৃঙ্খলা অবনতির তেমন কোন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আশাকরি ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন পরবর্তী ৪৮ ঘন্টাও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। কারণ আপনাদের কর্মকাণ্ডই বলে দিবে নির্বাচনের পর আপনি হিরো হবেন না-কি ভিলেন হবেন। সিদ্ধান্ত আপনাদের। 

সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বিকালে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির। 

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সিফাত আল জিনাতের সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে কোন কেন্দ্রে কোন ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না। কারণ প্রশাসন কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছে জিম্মি নয়। 

প্রধান অতিথি বলেন, এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। কেউ যদি মনে করেন এবারও গত তিনটি নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে, তাহলে ভুল ভাবছেন।

তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী বা তাদের সমর্থক যদি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার চেষ্টা করে। তাহলে তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় অন্যান্যদের মাঝে বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর আয়াজ আব্দুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তাসনিম আক্তার (পিপিএম), জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং আনসার ও ভিডিপির জেলা এডজুটেন্ট কানিজ ফাতেমা শান্তা।

অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনারগাঁও সার্কেলের তৌফিকুর রহমান, কাঁচপুর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার রাকিবুজ্জামান রেনু, উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহিনুর ইসলাম চৌধুরী, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিববুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



সোনারগাঁও দর্পণ :

বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ ডন বজলু এবং তার ৩ সহযোগিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১’র সদস্যরা। শনিবার (২৪ জানুয়ারী) বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ চিটাগাংরোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত প্রত্যেকের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে র‌্যাব সূত্রে জানা যায়। 

ডন বজলু ছাড়া বাকি আটককৃতরা হলো, ইউনুস ওরফে বাদল (২০), আব্দুল জাব্বার (৪২) এবং সাইদুল ইসলাম (৩৩)। 

র‌্যাব-১১ এর সূত্র জানায়, আটককৃতদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। 

অপরদিকে থানা পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের টেন্ডার নিয়ে আতাউর রহমান মুকুল নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও চলমান। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ জানুয়ারী) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে। গাজারিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া-দাওয়ার সময় সোনারগাঁও বিএনপি’র নেতা বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পরে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরেও আসে। সবশেষ গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) রাতে অভিযুক্ত বজলুর ভাইরাল হওয়া ভিডিও’র বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন এবং তদন্ত করে সঠিক তথ্য জনসাধাররণের সামনে তুলে ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 


 


সোনারগাঁও দর্পণ :

গত ২০ জানুয়ারী সোনারগাঁওয়ের জামপুরের অটোচালক সোহেল সোহেল হত্যার সাথে জড়িত দুই জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মরদেহ উদ্ধারের ৩দিন পর নারায়ণগঞ্জ পিবিআই সদস্যরা শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পাশাপাশি চুরি হওয়া অটোরিক্সাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সুজন ও শফিকুল ইসলাম হীরা হত্যাকাণ্ডের সাথে এবং বাকি ৩ জন মো. দুলাল মিয়া, মো. আব্দুর রহিম ও মো. আবুল কাশেম ছিনতাই বা চোরাই হওয়া অটোরিক্সা কেনাবেচার সাথে জড়িত। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের কাছ থেকে এ সকল তথ্য পাওয়া গেছে।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ সূত্র জানায়, গত ২০ জানুয়ারী সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধি অটোচালক সোহেলের স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে সোহেলের ভাই মহসিন বাদি হয়ে এ ঘটনায় হত্যা এবং হত্যা পরবর্তী গুম হওয়ার অভিযোগে মামলা করেন। পিবিআই মামলাটির অধিগ্রহণ নিয়ে তদন্তে কাজ শুরু করেন। তদন্তকালে সুজন ও শফিকুল ইসলাম হীরার নাম উঠে আসলে তাদের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা গত ১৯ জানুয়ারী অর্থের অভাবে সোহেলকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, চুরি করা অটোরিক্সাটি রূপগঞ্জে একটি গ্যারেজে রেখে পরে সেটি আড়াইহাজারে বিক্রি করা হয়। পরে রূমগঞ্জ ও আড়াইহাজার থেকে মো. দুলাল মিয়া, মো. আব্দুর রহিম ও মো. আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করে। 

এরআগে, গত ১৯ জানুয়ারী দুপুরে অটোরিক্সা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সোহেল। পরে রাতে আর বাড়ি ফিরে না যাওয়ায় তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্নস্থানে অনেক খোঁজাখোজি করলেও কোন সন্ধান পায়নি। পরের দিন ২০ জানুয়ারী সকালে স্থানীয়রা মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে স্কচটেপ দিয়ে মুখ, হাঁত ও পাঁ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিলে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে সোহেলকে শনাক্ত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। 

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, আসামীদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 



সোনারগাঁও দর্পণ :

গত বুধবার (২১ জানুয়ারী) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে। গাজারিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ার চ্ছলে সোনারগাঁও বিএনপি’র একটি অংশের নেতা-কর্মীদের এমন একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিও’র অভিযুক্ত বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কেউ নিজের বলে স্বীকার করছেনা। তারা বজলুকে একে অপরের মতাদর্শী বলে দাবি করছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখাগেছে, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু ও তার কয়েকজন অনুসারী খাবার টেবিলে খাবার খাচ্ছেন। এ সময় তাদের মধ্যে একজন সোনারগাঁও এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। এই সময় ভিডিওতে বজলুর রহমানের পাশে বসা অপর একজন বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, নির্বাচনের জন্য তাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার। 

এদিকে, বিএনপি নেতা বজলুর রহমানের কোনো এক কর্মী তাদের এ কথোপকথনটি ভিডিও রেকর্ড করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। এনিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর নারায়ণগঞ্জ পুরো জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শুধু তা-ই নয়, এ ভিডিও ফাঁসের পর নড়ে চড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

যদিও এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-খ (সার্কেল) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং তা যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান। এছাড়া পুলিশের একটি বিশেষ একটি টিমও ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বলে জানান।

অপরদিকে, ভিডিও’র প্রধান অভিযুক্ত বজলু নিজেকে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থক দাবি করলেও মান্নান বজলুকে গিয়াস পক্ষের এবং গিয়াস উল্টো বজলুকে মান্নানের কর্মী-সমর্থক বলে পাল্টপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের দাবি, ভিডিওতে থাকা বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু বিএনপি প্রার্থী মান্নানের এক নম্বর লোক। সে সারাক্ষণ মান্নানের সাথে থাকে এবং উপজেলা বিএনপির কমিটির পদেও রয়েছে। তাকে জড়িয়ে যা বলা হচ্ছে সেটা অপপ্রচার। এছাড়া শুরুতেই তাকে (গিয়াসউদ্দিন) নিয়ে মিথ্যা বলা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন।

সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান দাবি করেন, বজলু স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন করছে। আর ভাইরাল হওয়া ভিডিও’র বিষয়টি তার (মান্নান) জানা নেই।

অপরদিকে, বিএনপি নেতা বজলুর রহমান বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে বলেন, তারা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনার একসময় একজন সমর্থক তাকে একটি শর্টগান কেনার কথা বলেন। তিনি বিষয়টি উড়িয়ে দেন। 

তিনি আরও জানান, সম্ভবত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তার বৈধ শর্টগানটিও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। তার দাবি, তিনি আগা-গোড়া বিএনপি একজন কর্মী। আর যেহেতু, .দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই তিনি কাজ করছেন। এছাড়া, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ফাঁসানোর জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহ জানান, অস্ত্র নিয়ে আলাপচারিতার ভিডিওর ব্যাপারটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।



সোনারগাঁও দর্পণ : 

দলের নির্দেশ অমান্য করায় অবশেষে বহিস্কার হলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁও আসনের বিএনপির সাবেক সাংসদ এবং প্রতিমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঘোড়া প্রতিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ - ১ (রূপগঞ্জ) আসনের মো: দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ - ২ (আড়াইহাজার) আসনের মো: আতাউর রহমান আঙ্গুরকেও বহিস্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারী) রাতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিস্কারাদেশের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য নিন্মেবর্ণিত নেতৃবৃন্দকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১০ টি বিভাগের মোট ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। যেখানে রংপুর বিভাগের ৩ জন, রাজশাহী বিভাগের ৮জন, খুলনা বিভাগের ৬ জন, বরিশাল বিভাগের ২ জন, ঢাকা বিভাগের ৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৭ জন, ফরিদপুরের ৭ জন, সিলেটের ৫ জন, কুমিল্লার ৬ জন ও চট্টগ্রামের ৬ জন।

ঢাকা বিভাগের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৩ জন। তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ - ১ (রূপগঞ্জ) আসনের মো: দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ - ২ (আড়াইহাজার) আসনের মো: আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং নারাংণগঞ্জ - ৩ ( সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। 

এরআগে,  দলের নির্দেশ অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১১ জনকে বহিস্কার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বহিস্কারাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।



সোনারগাঁও দর্পণ :

নানা নাটকীয়তার পর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) জামায়াত মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ডঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার প্রার্থীতা বহাল রয়েছে। নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে অবরুদ্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রত্যাহার আবেদন জমা করতে না পারায় তার প্রত্যাহার পত্র গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন।

জামায়াত জোটের সমীকরণ ও  হিসেব নিকাশে ড. ইকবালের প্রার্থীতা নিয়ে সংশয় ছিল পুরোটা সময়। প্রথমে ১১ দলে জোট থাকাকালীন জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে অনেক গুঞ্জন ছিল। পরে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে গেলে আসনের দিকে চোখ পড়ে খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ অন্যান্য জোট সঙ্গীদের। 

তবে সাংগঠনিকভাবে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অবস্থানে থাকা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আসনটি ধরে রাখতে বরাবরই আত্মবিশ^াসী ছিল।

এরআগে, ১০ দলীয় জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোনারগাঁও -সিদ্ধিরগঞ্জ আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন সকাল থেকেই ইকবাল হোসাইন ভূইয়ার বাড়িতে অবস্থান নেয় নেতা-কর্মীরা। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর হাইকমান্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইকবাল হোসাইন ভূইয়াকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলা হয়। সে মোতাবেক ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জেলা আমির মাওলানা মমিনুল হক সরকারের নিকট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করেন। তবে প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছাকাছি তার আইনজীবীর কক্ষে অবরুদ্ধ করে তালা লাগিয়ে দেন তারা। একপর্যায়ে মাগরিবের নামাজের সময় তালা খুলে দিলে তিনি (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে) নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে গেলে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় সেটি গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার রায়হান কবির।

এ ব্যাপারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসার রায়হান কবির বলেন, ড. ইকবাল হোসাইন ভূইয়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে এসেছিলেন বিকেল পাচটার পর। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় আবেদনটি গ্রহন করতে পারিনি।



সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ের পৌরসভা এলাকায় অন্যের বাড়ির চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শাহ আলম ও সাদেকুর রহমান গত ১৮ জানুয়ারী সোনারগাঁও থানায় রাস্তা উদ্ধারে সহায়তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, সোনারগাঁও পৌরসভার পৌর ভবনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম ও সাদেকুর রহমান সিএস ও এসএ ভবনাথপুর মৌজায় এবং আর এস চৌদানা মৌজায় এসএ ৭৩, আর,এস ৪৬৩ দাগে ৭ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ ৭০ জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। এদিকে অভিযোগকারীদের বাড়িতে যাতায়াতের সড়ক বন্ধ করে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা আতাউর রহমান আতাউর। এমতাবস্থায় অভিযোগকারীরা এতে বাঁধা দিলে আতাউর সন্ত্রাসী দিয়ে বিভিন্ন হুমকি দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আতাউরের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতারা যখন পুলিশের ভয়ে এলাকা ছাড়া, তখন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলা মাথায় নিয়ে তার কর্মকাণ্ড রীতিমতো ভাবিয়ে তুলছে। শুধু জোর করে রাস্তা বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণই নয়, আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচনী পরিবেশ অস্বাভাবিক করতে তার মতো নেতাই যথেষ্ট। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান জানান, এমন একটা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে একজন অফিসার যান। কাজ বন্ধ রেখে উভয় পক্ষকে সামাজিকভাবে বিষয়টি মিমাংসা করতে বলা হয়েছে। সামাজিকভাবে  মিমাংসা না হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget